ইলমে ফিকহের সংজ্ঞা

ইলমে ফিকহ

❓ প্রশ্ন: ফিকহ কাকে বলে?

 

✍️ উত্তর:….بسم الله الرحمن الرحيم…..

 

শাব্দিক অর্থ:

 

ফিকহ (فِقْهٌ)  শব্দটি আরবি। এটি বাবে سَمِعَ ও كَرُمَ হতে ব্যবহৃত হয়। বাবে سَمِعَ থেকে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হবে- জানা, জ্ঞাত হওয়া বা অবহিত হওয়া ইত্যাদি। যেমন বলা হয়-

فيه فيها الى علم عاما

আর বাবে كَرُمَ থেকে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হবে ফকীহ হওয়া। যেমন বলা হয়- فقه نقاهُهُ وَهُوَ فَقِيهُ مِن قَومٍ فقهاء

-[লিসানুল আরব: ১৩/৫২২]

 

প্রখ্যাত অভিধান বিশারদ আল্লামা আবুল ফখল জামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুকাররম ইবনে মনযূর (র.) বলেন,
الفقه العِلْمُ بِالشَّىْءِ، ثم خص بعلم الشريعة والفهمُ لَهُ وَغَلَبَ على علم الدِّينِ لِبَادَتِهِ وَشَرِيهِ وَفَضْلِهِ عَلَى سَائِرِ أَنْوَاعِ الْعِلْمِ

অর্থ, ফিক্‌হ শব্দের (আভিধানিক অর্থ হলো, কোনো কিছু সম্বন্ধে জানা ও বুঝা। পরে অন্যান্য ইলম তথা জ্ঞান-বিজ্ঞানের ওপর শর’ঈ ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব, ফজিলত ও মাহাত্ম্যের কারণে এর ব্যবহার শর’ঈ ইলমের ক্ষেত্রেই বিশেষভাবে হতে থাকে।
-[লিসানুল আরব: ১৩/৫৫২]

 

শায়খ মুহাম্মদ আলাউদ্দীন হামকাফী (র.) দুররুল মুখতার কিতাবে উল্লেখ করেন যে,
فَالْفِقْ لُغَةٌ  الْعِلْمُ بِالشَّى ثُمَّ خُص يعلم الشريعة

অর্থ, আভিধানিক অর্থ হলো- কোনো কিছু সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়া ও জানা। পরে তা শর’ঈ বিষয়াদি জানার সাথে খাস হয়ে যায়। -(শামী ১ম খণ্ড, পৃঃ ১১৮)

 

আল্লামা ইবনে মুজায়ম (র.) ও তৎপ্রণীত আল বাহরুর রায়িক গ্রন্থে অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
[আল বাহরুর রায়িক: ১/৩]

 

আল্লামা রশীদ রিয়া মিশরী (র.) তৎপ্রণীত তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ শব্দটি কুরআন মাজীদের বিশ
স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে। তন্মধ্যে উনিশ স্থানে এটি গভীর জ্ঞান ও সূক্ষ্ম ইলমের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

 

পারিভাষিক অর্থ (ওলামায়ে কেরামের অভিমত):

​

ফিকহ শব্দের সংজ্ঞা নিয়ে ওলামায়ে কেরামের একাধিক অভিমত রয়েছে:

 

উসূলবিদ ওলামায়ে কেরামের মতে,

العلم بالاحكام الشريعة الفرعيةِ المكتسبُ من ادلتها التفصلية

অর্থ, শরিয়তের বিস্তারিত প্রমাণাদি থেকে শরিয়তের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কিত বিধি-বিধান সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়াকে ফিক্হ বলা হয়।

 

এ সংজ্ঞায় বিস্তারিত প্রমাণাদি বলে কুরআন, হাদীস, ইজমা, কিয়াস তথা শরিয়তের দলিল চতুষ্টয়কে বুঝানো
হয়েছে। – [শামী ১ম এবং ১১ ]

 

ফিকহবিদ ওলামায়ে কেরামের মতে, শরিয়তের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কিত হুকুম আহকামের সংরক্ষণ করাকে ফিক্‌হ বলা হয়।

 

সূফী সাধকদের মতে, ইলম ও আমলের সমষ্টির নাম ফিকহ। এ কারণেই হযরত হাসান বসরী (র.) বলেন, যে ব্যক্তি পরকালমুখী, ইহকাল বিমুখ ও দীনের প্রতি বসীরত সম্পন্ন অর্থাৎ সতর্ক দ্রষ্টা বা প্রত্যয়ী এবং স্বীয় প্রতিপালকের ইবাদতে সদা নিয়োজিত, এ জাতীয় ব্যক্তিকে ফকীহ্ বলা হয়। – [শামী ১/ ১২০]

 

ইমাম শাফিঈ (র.) ফিহের সংজ্ঞায় বলেন,

الفقه العلم بالاحكام الشرعية العملية من ادلتها

অর্থ, শরিয়তের বিস্তারিত প্রমাণাদি থেকে আমলী শরিয়তের বিধি-বিধান সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়াকে ফিক্‌হ বলা
হয় । -[আল ফিকুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহ ১/১৬]

 

ইমাম আ’যম ইমাম আবু হানীফা (র.) বলেন,

معرفة النفس ما لها و ما عليها

অর্থ, নফস ও আত্মার জন্য যেসব বিষয় কল্যাণকর এবং যেসব বিষয় কল্যাণকর নয়; তা সহ নফস সম্বন্ধে যথাযথ অবহিত হওয়াকে ফিক্‌হ বলা হয়।

 

এ সংজ্ঞায় আকীদা-বিশ্বাস, আখলাক ও তাসাউফ এবং সালাত, সওম, বেচাকেনা ইত্যাদি সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন জ্ঞানের প্রতিটি শাখা স্বতন্ত্ররূপ ধারন করে তখন আকাইদ সম্পর্কিত ইলমের নাম হয় “ইলমুল কালাম”। আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কিত ইলমের নাম হয় “ইলমুত তাসাউফ” এবং আমলী জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধানের নাম হয় “ইমুল ফিকহ”।
-[আল ফিকুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু- ১/১৫-১৬]

……فقط. والله اعلم بالصواب …….

 

🖍️উত্তর লিখনে-

মুফতী রিয়াজুল ইসলাম হানাফী

মাদারীপুরী

 

(👉🏿শরয়ী মাসয়ালার সামাধান জানতে যোগাযোগ করুন –

📱+8801339868000 (Contact+Imo+Whatsapp)

📧 contact.hanafifatawa@gmail.com

WhatsApp