প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসায় পড়া ও পড়ানোর বিধান

1779043436677 প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসায় পড়া ও পড়ানোর বিধান

❓প্রশ্ন: মেয়েদের জন্য প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসায় পড়া ও পড়ানো কি জায়েয?

✍️উত্তর: …….بسم الله الرحمن الرحيم…….

মেয়েরা বালেগা হওয়ার পর থেকেই নিজ ঘরে অবস্থান করে কোন মহিলা অথবা বাপ-ভাই বা অন্যান মাহরাম পুরুষদের থেকে জরুরী ইলম শিখবে, হাফেজা-আলেমা হবে। নিজ ঘরকেই বানাতে হবে মহিলা মাদ্রাসা।

বর্তমানে ইভটিজিং, ধর্ষন ও যেনা ব্যাভিচারের মত জগন্য ফিতনা ফাসাদের প্রসারের যুগে আল্লাহর হুকুম নিজ ঘরে অবস্থান করে পর্দা করার বিধান লঙ্ঘন করে নিজ সতীত্বকে হূমকির মুখে ফেলে কোন বালেগা মেয়ের জন্যই প্রচলিত কওমী মহিলা মাদ্রাসায় গিয়ে বেগানা পুরুষদের তত্ত্বাবধানে থেকে পড়ালেখা করা জায়েয হবে না।

📚 দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা:

 

  • দ্বীনী ইলম শিক্ষা ফরজ:

 

জান্নাতে যাওয়ার পথ হল একটি। আর তা হল ঈমান ও আমল। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা বুরূজের ১১ নাম্বার আয়াতে বলেন,

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُمْ جَنَّٰتٌ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ ذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْكَبِيرُ

অর্থ, “যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহাসাফল্য।”

দ্বীনি ইলম তথা ইসলামী জ্ঞান ব্যতীত ঈমান আনয়ন করা ও  নেক আমল করা অসম্ভব। তাই তো দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করা পুরুষ-নারী উভয়ের উপর জরুরী।

তাই তো আল্লাহ তায়ালা ইলমে দ্বীন বৃদ্ধির জন্য দোয়া করতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, 

وَقُلْ رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا 

অর্থ, “বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর।” -(সূরা ত্ব-হার: ১৪৪)

এ সম্পর্কে হাদীসে আছে,  রাসূলুল্লাহ (স) বলেন,

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَوَاضِعُ الْعِلْمِ عِنْدَ غَيْرِ أَهْلِهِ كَمُقَلِّدِ الْخَنَازِيرِ الْجَوْهَرَ وَاللُّؤْلُؤَ وَالذَّهَبَ ‏”‏

অর্থ, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফারয। অপাত্রে জ্ঞান দানকারী শুকরের গলায় মণিমুক্তা ও সোনার হার পরানো ব্যাক্তির সমতুল্য।” -(ইবনে মাজা: হাদীস নং ২২৪)

অপর হাদীসে আছে,

وَعَن مُعَاوِيةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْراً يُفَقِّهْهُ فِي الدِّين

অর্থ, মোয়াবিয়া (রা) থেকে বর্নিত, রাসূল্লাহ (স) বলেন,আল্লাহ তাআলা যাকে প্রভূত কল্যাণ দিতে চান তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন।’ -(সহীহ বুখারী ১/১৬, ইবনু মাজা ২২০)

তালীমুল মুতায়াল্লিম কিতাবের ৪৮ পৃষ্ঠায় আছে, “ব্যক্তির জন্য যা কিছু আদায় করা ফরজ সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও ফরজ। আর যা আদায় করা ওয়াজিব সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও ওয়াজিব, আর যা আদায় করা সুন্নাত সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও সুন্নাত।”

সুতরাং সবার জন্য হাফেজ – হাফেজা, আলেম – আলেয়া, মুফতী – মুফতীয়া, মোহাদ্দেস – মোহাদ্দেসা, মোফাস্সের – মোফাস্সের মোফাস্সেরা, আদীব-আদীবা হওয়া ফরযে আঈন নয়।

তবে কুরআন-হাদীসের গভীর জ্ঞান তথা শরীয়তের উপর অভিজ্ঞতা অর্জন মুসলিম মিল্লাতের যেকোন সমস্যার সমাধান দেওয়ার মতো উচ্চশিক্ষা গ্রহণ প্রত্যেক যুগে একদল মুসলমানের উপর ফরজে কিফায়া৷ এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব চৌদ্দশত বছর যাবত পুরুষগনই আঞ্জাম দিয়ে আসছেন৷ শরীয়তের আলোকে এ দায়িত্ব কোন মহিলাকে দেওয়া হয়নি৷

 

  • পর্দা করা ফরজ:

 

 

যেমনিভাবে মেয়েদের দ্বীনের জরুরী ইলম অর্জন করা ফরয তেমনিভাবে মেয়েদের পর্দা করা ও সতীত্ব রক্ষা করাও ফরয।

মেয়েদের পর্দার মূল ও তাদের সতীত্ব হেফাজতের নিরাপদ দুর্গ হলো তাদের নিজ ঘর। আপন ঘরই হল নারীদের কর্মস্থান। মহিলাদের জন্য নিজ ঘরে অবস্থান করা ফরয।

সুতরাং মহিলাদের জন্য  শিক্ষা, চিকিৎসা সহ দৈনন্দিন সকল কাজকর্মই এবং সকল ইবাদাত বন্দেগীই তার ঘরে বসেই আনজাম দেওয়া জরুরী। জীবন নাশের আশংকা বা এজাতীয় কঠিন সমস্যা ছাড়া কোন খোড়া অযুহাতে ঘর থেকে বের হওয়া বৈধ নয়।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

অর্থ: “আর তোমরা অবস্থান কর তোমাদের বসবাসের গৃহে। নিজেদের মুর্খতার যুগের মহিলাদের মত প্রকাশ করো না।” -(সূরা আহযাব: ৩৩)

আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়, নারীর আসল অবস্থানক্ষেত্র হচ্ছে তার নিজ ঘর। কেবলমাত্র অতি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সে ঘরের বাইরে বের হতে পারে। এছাড়  নয়। -(ইবন কাসীর মুয়াসসার)

 

আল্লাহ তায়ালা আরে বলেন,

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ

অর্থ : “আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ।” -(সূরা আহযাব: ৫৩)

এই আয়াত দ্বারা বুঝা গেল, রাসুলুল্লাহ (স) এর যামানার নারীরা সবসময়ই আপন ঘরে অবস্থান করতেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া তারা ঘর থেকে বের হয়ে পরপুরুষের সামনে আসতেন না।

এই বিধান উমার (রাঃ)-এর বাসনার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার নিকট সৎ-অসৎ অনেক রকমের লোক আসা যাওয়া করে। আপনি আপনার পত্নীগণকে পর্দা করার আদেশ দিলে খুবই ভাল হত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা এই পর্দার হুকুম নাযিল করেন।

-(বুখারীঃ কিতাবুস স্বালাহ ও তাফসীর সুরা বাক্বারাহ, মুসলিমঃ বাবু ফাযায়েলে ওমর বিন খাত্তাব)

মেয়েদের যৌনাঙ্গের হেফাজত তথা সতীত্ব রক্ষার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ

অর্থ: “ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে।” -(সূরা নূর: ৩১)

বলাবাহুল্য যে, নারীর নিজের ও নিজের সৌন্দর্যকে পরপুরুষ থেকে আড়াল রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হল নিজ ঘরে অবস্থান করা। কেননা ঘরের চার দেয়াল এবং পর পুরুষের সামনে না যাওয়া ও তাদের সঙ্গে উঠাবসা-চলাফেরা থেকে বিরত থাকাই নারীর জন্য পরিপূর্ণ পর্দা।

হাদীসে মেয়েদের আপন ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করে বলা হয়েছে-

عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتْ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, নারী জাতি হল আপাদমস্তক সতর। যখনি সে বের হয়, তখনি শয়তান তাকে চমৎকৃত করে তোলে।

-(সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১৭৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২০৬৫, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১৬৮৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৫৯৮)

কোন নারী যখন নিজ ঘর থেকে বের হয়, তখনি শয়তান তাকে পরপুরুষের দৃষ্টিতে চমৎকৃত করে তোলে। আর তখনি গাইরে মাহরাম পুরুষদের কামুক দৃষ্টি পড়ে তার উপর। ফলে সংঘটিত হয় ইভটিজিং, যেনা ব্যাভিচার ও ধর্ষনের মত নিকৃষ্ট ফেতনা।

👉🏿 উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে, জরুরী দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করা মেয়েদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটিও তাদেকে নিজ ঘরে বসে আনজাম দিতে হবে। নিজ ঘরকেই বানাতে হবে মহিলা মাদ্রাসা।

আল্লাহর হুকুম নিজ ঘরে অবস্থান করে পর্দা করার বিধান লঙ্ঘন করে ও নিজ সতীত্বকে হূমকির মুখে ফেলে কোন বালেগা মেয়ের জন্যই প্রচলিত কওমী মহিলা মাদ্রাসায় গিয়ে বেগানা পুরুষদের তত্ত্বাবধানে থেকে ইলম অর্জন করে আলেমা হওয়া বৈধ হবে না।

রাসূলুল্লাহ (স) এর যুগ ছিলো স্বর্নের যুগ, সোনালী যুগ। সেসময়ে নারী পুরুষের জান মাল ইজ্জতের  সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ছিলো। কোন ধরনের ফেতনা ফাসাদের আশংকা ছিলো না বললেই চলে। সেসময় যদি একজন সুন্দরী কুমারী যুবতী এক দেশ থেকে অন্য দেশে একা একা হেটে যেতো পথিমধ্যে তার দিকে কোন পুরুষের কুদৃষ্টিতে তাকানোরও সাহস ছিলো না।

আর এ কারনেই রাসুলুল্লাহ (স.)-এর যুগে নারীদের মসজিদে নামাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এ যুগে সাধারণভাবে সকল নারীদের জন্য ঘরের নামাজ মসজিদের চেয়ে উত্তম ছিল। তাই তো রাসূল (স) চাইতেন যে, মহিলারা মাসজিদে না গিয়ে ঘরে বসেই নামায আদায় করুক।

রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওফাতের পরে দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন আসে। মানুষের মাঝে ঈমান আমলের কিছুটা ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হজরত আয়েশা রা. বলেন, নারীরা যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে তা যদি রাসুলুল্লাহ সা. দেখতেন, তবে বনি ইসরাঈলের নারীদের যেমন নিষেধ করা হয়েছিল, তেমনি এদেরও মসজিদে আসতে নিষেধ করে দিতেন।” -(সহিহ বুখারি : ৮৬৯)

এ হাদিসটি পর্দার মাসআলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মূলনীতিকে উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে সাহাবি, তাবেয়ি ও ফকিহগণ এ মূলনীতিকেই আকড়ে ধরেছেন। মূলনীতিটি হলো, ‘স্থান-কাল-পাত্রভেদে মহিলাদের পর্দার বিধানটি পরিবর্তনশীল।’

এ ব্যাপারে সকল ওলামায়ে কেরাম একমত যে, একবিংশ শতাব্দী হলো ফেতনা ফাসাদে পরিপূর্ণ যুগ। সুতরাং রাসুলুল্লাহ (স) যদি আমাদের এই যুগ দেখতেন তাহলে তিনি মহিলাদেরকে মাসজিদে আসতে কতটা কঠোরভাবে নিষেধ করতেন তা সহজেই বুঝা যায়।

রাসূলুল্লাহ (স) এর যুগে মহিলাদের জন্য কোন মাদ্রাসা ছিলো না। মাদ্রাসায় পড়ার অনুমতি তো দূরের কথা। ফেতনার কারনে মহিলাদের মসজিদে গিয়ে নামায পড়া যদি নাজায়েয হয় তাহলে তো নিজ ঘর ছেড়ে প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ালেখা করা তো আরো কঠোরভাবে নিষেধ হবে।

নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রচলিত কওমি মহিলা মাদরাসার প্রচলন বাড়তে থাকে। শুরুর দিকের মাদরাসাগুলো বড় বড় মুরব্বির কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখন আর তা নিয়ন্ত্রণে নেই। যার ইচ্ছা হচ্ছে সে-ই ছোটখাটো ফ্ল্যাট ভাড়া করে খুলে বসছে মহিলা কওমি মাদরাসা। ফলে তাদের শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে।

যেনা ও ধর্ষণের ফেতনার আশংকায় মহিলা মাদ্রাসা জন্মের থেকেই এটা একটা বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান। কিছু উলামায়ে কেরাম এটিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও এর বিরোধিতা করেছেন দেশের প্রথম সারির অনেক হক্কানী আলেম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুফতি আযম ফয়যুল্লাহ (রহ)- মেখোল, মুফতি সাইফুল্লাহ (রহ) – হাতিয়া, ফকীহে মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান (রহ), হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুফতী নূর আহমাদ (দা) হাতিয়া তরজের সকল আলেমগন।

এসব আলেমগণ ফেতনার আশংকায় এর বিরোধীতা করছেন। আজ সেই আশংকা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মহিলা মাদ্রাসারয় যেনা ও ধর্ষনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। যার প্রমাণ ইন্টারনেট ও পত্র পত্রিকায় ভরপুর।

কেননা হাদীস শরীফে আছে, হজরত উকবাহ ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ الْحَمْوُ الْمَوْتُ

অর্থ, “তোমরা (মাহরাম নয় এমন) নারীদের কাছে যাওয়া পরিত্যাগ কর। এক আনসারী ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ্! দেবর সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, দেবর তো মৃত্যু সমতুল্য।” -(বুখারি ৫২৩২, মুসলিম ৫৫৬৭)

অর্থাৎ মৃত্যু যেমন জীবনের জন্য ভয়ানক তেমনি দেবর-ভাসুরও ভাবীর সতীত্বের জন্য ভয়ঙ্কর। অনুরূপভাবে সকল বেগানা পুরুষই সকল বেগানা নারীর সতীত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

নিজ মেয়েকে প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসায় পড়ানোর মানেই হলো বাঘের কাছে হরীণ পালতে দেওয়া। কেননা একটা বাঘ 🐅 যেমন হরিনের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ ঠিক তেমনি একজন বেগানা পুরুষ একজন বেগানা নারীর সতীত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। যদিও সে বেগানা পুরুষ কোন হাফেজ বা আলেম, পীর বা মাশায়েখ হোক না কেন।

বর্তমান কওমী মহিলা মাদ্রাসাগুলো হল বাঘ আর হরিণের আবাসস্থল। এসব মাদ্রাসাগুলো পরিচালিত হয় বেগানা পুরুষ দ্বারা। ক্লাস নেয় বেগানা পুরুষে। শিক্ষক ও ছাত্রীদের মাঝে থাকে অবাধ মেলামেশা ও বাঁধাহীন যোগাযোগ।

 

এসব মাদ্রাসার ছাত্রীদের সতীত্ব রক্ষা হুজুর নামক বেগানা পুরুষদের তাকওয়ার উপর নির্ভর করে। যখন হুজুরদের নফস তাকওয়ার উপর বিজয় লাভ করে তখনি হুজুর নামক বাঘ ছাত্রী নামক হরীনের সতীত্ব নামক কলিজাটাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। এসময় সে সাহায্যের জন্য তার পাশে না পায় তার বাবা মাকে আর না পায় তার অন্য কোন অভিভাবককে। কেননা সে আপন নীড় ছেড়ে বাঘের খাঁচায় চলে এসেছে। তখন ছাত্রী নামক হরীনীটার সতীত্ব হারিয়ে চোখে মরিচ দিয়ে কান্দা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

এই কারণেই আমার উস্তাদ মুফতি আ: সবূর সাহেব বলতেন, মহিলা মাদ্রাসা হল বেশ্যাখানা। তখন হুজুরের কথাটা বুঝতে পারতাম না। বলতাম, হুজুর কি পাগল হয়ে গেছে না কি?? এখন হুজুরের কথাটা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ইদানীং গণমাধ্যমে উঠে আসছে মহিলা মাদরাসায় সংঘটিত নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা গোটা বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের হতাশ করে তুলছে। কলুষিত করছে গোটা আলেমসমাজকে। কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ তাদের মহিলা মাদরাসাকে পতিতালয়ে পরিণত করছে।

জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করার অভিযোগ উঠেছে এক মহিলা মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গুনাহ হবে, হুজুরের কথা না শুনলে জাহান্নামে যেতে হবে- এমন আরো নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে গত তিন বছরে ১১ জন মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকার দারুল হুদা মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। গত (২৭ জুলাই) শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। 
এর আগে ছয় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কেন্দুয়ার আঠারবাড়ী এলাকায় মা হাওয়া (আ.) কওমি মহিলা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক। র‌্যাবের দাবি, তিনি ধর্ষণের পর বিষয়টি গোপন রাখতে ছাত্রীদের কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ করাতেন। ধর্ষণের শিকার শিশুদের বয়স ছিল ৮ থেকে ১১ বছর। (ঢাকা ট্রিবিউন, ৬ জুলাই ২০১৯)

১০-১২ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বায়তুল হুদা ক্যাডেট মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আল আমিন (৪৫)। গজবের ভয় দেখিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারীর উত্তর বাইটকামারীর মাদরাসা মুহতামিম আব্দুল বাছেদের বিরুদ্ধে। (ঢাকা টাইমস, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮)

সাভারের জামিয়া আয়শা সিদ্দিকা মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা ইরশাদুল্লাহ। সে মাদ্রাসার শেষ বর্ষের ছাত্রীদেরকে টার্গেট করে। তার ছলে বলে কলে কৌশলে তার সাথে অনৈতিক কাজ করে মোবাইল দিয়ে তা ভিডিও করে রাখে। আর পরে সেই ভিডিও দিয়ে ব্লকামেইল করে ছাত্রীদের সাথে শুরু করে এক যৌন নিপিড়নের খেলা। মাদ্রাসার শিক্ষিকারাও রেহাই পায় নাই তার যৌন নিপিড়ীত থেকে।পরবর্তীতে তালাশ টিমের মাধ্যমে তার এই কুকর্ম ফাঁস হয়ে যায়। 

তালাশ টিমের সেই ভিডিওর লিংক নিম্নে দেওয়া হলো- 

https://www.facebook.com/share/v/15JGusHkNa/

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন জরুন এলাকার মাওলানা আব্দুল মতিন দিনাজপুরী ও এক মাদ্রাসার ছাত্রীর কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে । কথোপকথনে শোনা যায় ওই ছাত্রী সাথে অবৈধ  সম্পর্ক স্থাপন করেছে  মাওলানা আব্দুল মতিন দিনাজপুরী। মহিলা মাদ্রাসায় পড়া ও পড়ানো যে নাজায়েয তা এই কল রেকর্ড থেকেই বুঝা যায়।

ভাইরাল হওয়ার কল রেকর্ডটির লিংক নিম্নে দেওয়া হলো-

https://www.facebook.com/share/v/12Aqry6fwAv/

প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসাগুলোতে এসব বিপত্তিমূলক ও আপত্তিকর অঘটন অহরহ ঘটতেছে। যা মিডিয়ার চোখে খুব কমই ধরা পড়ে। এরপরও কিছু কিছু অঘটন মিডিয়া ও প্রশাসনের নলেজে চলে গেছে ও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। গুগল বা ইউটিউবে সার্চ দিলে মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণের হাজারো প্রমান পেয়ে যাবেন।

এসব আলেমরা যখন মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তখন তারা ভালো নিয়তেই করে। তাদের মনের কোনেও এটা থাকে না যে, কোন ছাত্রী বা শিক্ষিকার সাথে অনৈতিক কাজ করবে।

কিন্তু ছাত্রী ও শিক্ষিকা নামক বেগানা নারীদের সংস্পর্শে বছরের পর বছর থাকতে থাকতে তারা যখন মিজেদের উপর নিয়ত্রন হারিয়ে ফেলে তখনি সংঘঠিত হয় যেনা ও ধর্ষণের মত কুকর্ম।

বিড়ালের 🐈 কাছে যদি ভাজা ইলিশ মাছ আমানত রাখা হয় তাহলে বিড়াল সেই আমানত কতক্ষন রক্ষা করতে পারবে?? না পারাটাই স্বাভাবিক। এই চরম বাস্তবতাটা পাগলেও কিন্তু বুঝে।।

সুতরাং প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসাকে সম্পূর্ণরূপপে বয়কট করা এবং নিজ বেন ও মেয়েদেরকে নিজ ঘরে রেখে পড়ানো এখন সময়ের দাবি।

 

 

  • কিছু প্রশ্ন ও তার জবাব:

 

❓এখন অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, আরে মুফতী সাহেব! আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন না কি? কি বলেন এসব!! এজন হুজুরের দ্বারা যেনা ধর্ষণ কি সম্ভব?

✍️জবাবে আমি বলবো, আরে ভাই! সম্ভব সম্ভব, অনেক কিছুই সম্ভব।। হুজুররা তো আর রোবট না। তারাও আপনার মত মানুষ। আপনার সাথে যেমন নফস ও শয়তান আছে তেমনি তাদের সাথেও আছে। আপনি নফস ও শয়তানের ধোকার মোকাবেলা করতে যতটুকু চেষ্টা করেন হুজুররা তার চেয়ে বেশী চেষ্টা করে। কিন্তু মানুষ হিসেবে এ চেষ্টায় যখনি ব্যার্থ হয় তখনি দেখা দেয় বিপত্তি।

❓অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে, “মহিলা মাদ্রাসার অনাকাঙ্ক্ষিত দু-একটি অঘটনের কারনে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আদৌ ঠিক ঠিক হবে?”

✍️জবাবে তাদের উদ্দেশ্য করে বলছি, যেখানে মেয়ের সতীত্ব হারানোর ভয় থাকে সেখানে মেয়েকে পাঠানো আদৌ উচিত হবে না। কোথাও যদি আপনার মেয়ের জীবন নাশের আশংকা থাকে সেখানে কি আপনার মেয়েকে ভুলেও কখনো পাঠাবেন? না, কখনোই পাঠাবেন না।

তাহলে যেই মহিলা মাদ্রাসায় মেয়ের সতীত্ব নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি করে আপনার মেয়েকে সেখানে আলেমা বানানোর জন্য পাঠান!! তবে কি আপনি আপনার মেয়ের সতীত্বকে একেবারেই মূল্যহীন মনে করেন??

আচ্ছা, একটা কথা চিন্তা করুন তো, একটি মহিলা মাদ্রাসায় বছরে দু-একটি মেয়ে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় তার মহামূল্যবান সতীত্ব হারায়। ঐ দু-একটি মেয়ের মধ্যে আপনার মেয়েটিও যে হবে না তার নিশ্চয়তা কি? আল্লাহ না করুক, যদি আপনার মেয়ে আলেমা হতে গিয়ে সতীত্ব হারিয়ে ঘরে আসে তখন আপনার কেমন লাগবে??

আচ্ছা, আপনি বলুন তো, মেয়েকে হাফেজা-আলেমা বানানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, না কি মেয়ের সতীত্ব রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?? অবশ্যই মেয়ের সতীত্ব রক্ষা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সতীত্ব রক্ষা করা ফরজে আইন আর হাফেজা আলেমা হওয়া ফরজে আইন নয় , বরং ফরজে কেফায়া। যা একজন পুরুষ আদায় করলেই সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। সুতরাং আপনার মেয়েকে হাফেজা ও আলেমা বানানোর জন্য কোন বেগানা পুরুষের হাতে  তুলে দেওয়া কখনোই উচিত হবে না।

❓এখন কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যে, কওমী মহিলা মাদ্রাসার এতো দোষ। তাহলে মেয়েকে স্কুল কলেজে পড়াবো না কি?

✍️আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতেছি, বর্তমান স্কুল কলেজগুলো তো আরো বেশি নষ্ট একটি ডাসবিন। সেখানে তো প্রেমিকের সাথে ব্যাভিচার করে গর্ভবতী হয়ে বাচ্চা নস্ট করে ডাসবিনে ফেলে দেওয়া হয়। কুকুরের খাবার হয় সেই নিষ্পাপ নবজাতক। সেখানে ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। প্রতি রাতে ক্যাম্পাসের নতুন নতুন মেয়েকে রাজনৈতিক নেতাদের বেডরুমে পাঠানো হয়। কেউবা হোষ্টেলের পতিতাদের খাতায় নাম লেখায়। সেখানকার অধিকাংশ মেয়েরাই নিশা করে মাতাল হয়ে থাকে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ধ্বংস হয়ে যায় তাদের লেখাপড়া। এমন পরিস্থিতিতে আপনার মেয়েকে স্কুল কলেজে ভর্তি করার কথা চিন্তা করলেও তো শরীর শিউরে উঠার কথা।

 

  • ইলম শিক্ষায় উদাসিনতার প্রেক্ষিতে করনীয়:

 

বর্তমান যামানা যেমন ফেতনা ফাসাদের যামানা ঠিক তেমনি দ্বীন ইসলাম থেকে গাফেল ও উদাস থাকার যামানা। মানুষের মাঝে না দ্বীনী ইলমের গুরুত্ব আছে, না নেক আমলের গুরুত্ব আছে! এজন্য অধিকাংশ পরিবারেই দেখা যায় অভিভাকরা দ্বীনী জ্ঞানের ক্ষেত্রে অজ্ঞ। তারা নিজ ঘরের মাহরাম মেয়েদেরকে কিভাবে ইলম শিক্ষা দিবে? আলেমদের থেকে শিখে মাহরাম মেয়েদেরকে শিখাবে সেই আগ্রহ স্পৃহা ও সময় সুযোগও তাদের নেই।

সুতরাং সমাজে এটা একটা মস্তবড় সমসয়া হয়ে দেখা দিয়েছে। এর উপযুক্ত সামাধান না করা হলে আগামীতে নারী জাতি দ্বীনী জ্ঞানের ক্ষেত্রে  অজ্ঞতার মধ্যে ডুবে যাবে। তখন তাদের জন্য সহীহ শুদ্ধভাবে কোন ইবাদাত করাই সম্ভব হবে না।

👉 এই সমস্যার সামাধানের লক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করতে হবে তা হলো, সমাজে ব্যাপকভাবে মাসজিদ ভিত্তিক ফোরকানিয়া মক্তব ও নূরানী মাদ্রাসার ব্যাপক প্রচলন করতে হবে। মেয়েরা শিশু অবস্থায থেকে বালেগা হওয়ার আগ পর্যন্ত ফোরকানিয়া মক্তব ও নূরানী মাদ্রাসায় পড়বে। সেখান থেকেই সে ইসলামী ও জাগতিক জরুরী জ্ঞান অর্জন করে নিবে। এসময়ও নিজ শিশু কন্যার নিরাপত্তার ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কেননা বর্তমানে শিশুরাও ধর্ষন থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

👉 উক্ত সমস্যার সমাধানের জন্য দ্বিতীয় যে পদক্ষেপটি নেওয়া যেতে পারে তা হলো- মাসজিদ ভিত্তি পুরুষ বয়ষ্ক শিক্ষা চালু করতে হবে। সেখানে তাদেরকে কুরআন শিক্ষা সহ জরুরী মাসয়ালা মাসায়েল শিক্ষা দিতে হবে। যাতে তারা গিয়ে নিজ ঘরের মাহরাম মহিলাদেরকে শিখাতে পারে।

❓এখন অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, মুফতী সাহেব! ইসলামে কোন কঠোরতা নেই। অথচ আপনি যে শর্ত দিলেন তা তো লোহার চেয়েও বেশি কঠিন।

আমি আপনাকে বলবো, ভাই! ইসলামের বিধানের মধ্যে কঠোরতা নেই এমন নয়। নম্রতা ও কঠোরতার সমন্বয়েই ইসলামের বিধান। মেয়েদের সতীত্ব রক্ষার জন্যই আল্লাহ তায়ালা পর্দার বিধান অবতীর্ণ করেছেন। পর্দার বিধান যে যত বেশি কঠোরভাবে পালন করবে তার সতীত্ব ততবেশি হেফাজত থাকবে। আর ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ তো আল্লাহ তায়ালাই দিয়েছেন। তাই ঘরে অবস্থান করাকে কঠোরতা বলে এড়িয়ে যাওয়ার বিন্দু পরিমাণ সুযোগ নেই।

সুতরাং বালেগা হওয়ার পর থেকে আপনার মেয়েকে ঘরে রেখে তার সতীত্বের হেফাজত করুন। এটাই ইসলামের দাবি।

সর্বপরি বলবো, ছাত্রী ও শিক্ষিকাদেরকে ধর্ষণ ও তাদের সাথে যেনা ব্যাভিচারে লিপ্তদের বিরুদ্ধে শরয়ী শাস্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। প‌বিত্র কুরআন ও হাদী‌সে ধর্ষণ বা ব্য‌ভিচা‌রের শা‌স্তি সম্প‌র্কে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা  বলেন, ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

-(সুরা আন নুর, আয়াতঃ ২)

এ প্রসঙ্গে প‌বিত্র হাদিসে ব‌র্ণিত হয়েছে, ‘অবিবাহিত নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে ১০০ বেত্রাঘাত ও রজম তথা পাথর মেরে মৃত্যুদন্ড।’ -(মুসলিম শরীফ)

হজরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে তিনি ধর্ষিতাকে কোনোরূপ শাস্তি দেননি, তবে ধর্ষককে হদের (কোরআন-হাদিসে বহু অপরাধের ওপর শাস্তির কথা আছে। এর মধ্যে যেসব শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কোরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত তাকে হদ বলে) শাস্তি দেন।’

-(সুনা‌নে ইবনে মাজাহ)

………فقط. والله اعلم بالصواب………

  • 🖍️উত্তর লিখনে-

মুফতী রিয়াজুল ইসলাম হানাফী

মাদারীপুরী

👉🏿শরয়ী মাসয়ালার সামাধান জানতে যোগাযোগ করুন –

📱01339868000 (Whatsapp)

📧 contact.hanafifatawa@gmail.com

WhatsApp