❓প্রশ্ন: গুনাহ মুক্তভাবে ফেসবুক ব্যবহারের ইসলামী নিয়ম কি?
✍️উত্তর:….بسم الله الرحمن الرحيم….
ফেসবুক বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অসচেতনতার কারণে এখানে প্রতিনিয়ত নানা রকম গুনাহ ও ফেতনার মুখোমুখি হতে হয়। ইসলামে কোনো প্রযুক্তি বা মাধ্যমকে ব্যবহারের মূল নীতি হলো—তা যেন কল্যাণের কাজে ব্যবহৃত হয় এবং অমঙ্গল ও পাপ থেকে দূরে রাখে।
ইসলামী নির্দেশনা অনুযায়ী গুনাহ মুক্তভাবে ফেসবুক ব্যবহারের মূল নিয়মগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দৃষ্টির হেফাজত ও ফিড নিয়ন্ত্রণ (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
ফেসবুকে স্ক্রল করার সময় হুট করেই অপ্রিয়, অশ্লীল বা বেপর্দা ছবি এবং ভিডিও সামনে চলে আসতে পারে। কুরআন ও হাদিসে দৃষ্টি অবনত রাখার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।
ফিড ফিল্টার করুন: আপনার হোম পেজে যেন কোনো অশ্লীলতা না আসে, সেজন্য খারাপ বা অনৈক্য সৃষ্টিকারী পেজ, গ্রুপ এবং আইডি আনফলো, ব্লক বা স্নুজ করে রাখুন।
হুট করে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া: অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো বাজে ছবি বা ভিডিও সামনে চলে আসলে সাথে সাথে স্ক্রল করে চলে যান বা চোখ সরিয়ে নিন।
২. ফ্রেন্ডলিস্ট ও গ্রুপ নির্বাচন:
ভালো মানুষের সঙ্গ: আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে এমন মানুষদের রাখুন যারা দ্বীনি, গঠনমূলক এবং ইতিবাচক কথাবার্তা শেয়ার করেন। অসৎ, গীবতকারী বা অশ্লীল ছবি-পোস্ট শেয়ার করা ব্যক্তিদের আনফ্রেন্ড বা মিউট করে দিন।
দ্বীনি গ্রুপে যুক্ত হওয়া: দ্বীন শেখা এবং ভালো কাজের চর্চা হয়—এমন গ্রুপগুলোতে যুক্ত থাকুন।
৩. কনটেন্ট শেয়ার ও কমেন্ট করার ক্ষেত্রে সতর্কতা:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) তাই বলে বেড়ায়।” (সহীহ মুসলিম)
তথ্য যাচাই করুন: যেকোনো খবর, বিশেষ করে ধর্মীয় পোস্ট বা কোনো মানুষের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের পোস্ট শেয়ার করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা নিশ্চিত করুন। ভুল বা মিথ্যা তথ্য শেয়ার করলে সেই গুনাহের দায় আপনার ওপরও আসবে।
কমেন্ট বক্সে শালীনতা: কারো পোস্টে মন্তব্য করার সময় গালিগালাজ, উপহাস বা কাউকে ছোট করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
৪. গীবত ও পরনিন্দা থেকে বেঁচে থাকা:
বাস্তব জীবনের মতো ফেসবুকেও গীবত বা পরনিন্দা করা সমান অপরাধ। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নামে ট্রল করা, তাদের ব্যক্তিগত ত্রুটি নিয়ে হাসাহাসি করা এবং পেছনে সমালোচনা করা থেকে দূরে থাকুন।
৫. রিয়া বা লোকদেখানো মানসিকতা বর্জন:
আপনার ইবাদত, দান-সদকা, হজ্জ-ওমরাহ বা ভালো কাজের ছবি বা পোস্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য যেন মানুষের বাহবা কুড়ানো (রিয়া) না হয়। নিয়ত যেন থাকে কেবল অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি।
৬. সময়ের অপচয় রোধ করা:
অপ্রয়োজনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক স্ক্রল করা এক ধরণের অপচয়, যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ এবং দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে গাফেল (উদাসীন) করে দেয়। ফেসবুক ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে নিন, যেন তা আপনার সালাত, পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্রে বিঘ্ন না ঘটায়।
একটি সহজ সূত্র: আপনি যখন ফেসবুকে কোনো কিছু লিখছেন, দেখছেন বা শেয়ার করছেন, তখন মনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনাকে দেখছেন এবং আপনার ডান ও বাম কাঁধের ফেরেশতারা প্রতিটি ক্লিক ও টাইপ লিপিবদ্ধ করছেন। ফেসবুককে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের মাধ্যম বানানোর নিয়ত করলেই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হবে, ইনশাআল্লাহ।
……فقط. والله اعلم بالصواب …….
🖍️উত্তর লিখনে-
মুফতী রিয়াজুল ইসলাম হানাফী
মাদারীপুরী
👉🏿শরয়ী মাসয়ালার সামাধান জানতে যোগাযোগ করুন –
📱+8801339868000 (Whatsapp)
📧 contact.hanafifatawa@gmail.com

