সোশাল মিডিয়ায় ছেলে মেয়ে একে অন্যকে ফ্রেন্ড বা ফলো করার বিধান

❓প্রশ্ন: সোশাল মিডিয়ায় ছেলে মেয়ে একে অন্যকে ফ্রেন্ড বা ফলো করা কি জায়েয?

✍️উত্তর:….بسم الله الرحمن الرحيم…..

ইসলামের সাধারণ মূলনীতি অনুযায়ী, শরীয়তসম্মত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন (যেমন: শিক্ষা, ব্যবসা, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন বা প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান) ছাড়া একজন পরপুরুষ এবং পরনারীর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ, সখ্যতা বা বন্ধুত্ব গড়ে তোলা জায়েজ নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি) ছেলে-মেয়ে একে অপরকে ফ্রেন্ড বানানো বা ফলো করার বিষয়টি মূলত এর উদ্দেশ্য, ব্যবহার এবং ফেতনার আশঙ্কার ওপর নির্ভর করে। কুরআন ও হাদিসের আলোকেও এর বিভিন্ন দিক রয়েছে:

১. কখন জায়েয বা অনুমোদিত (শর্তসাপেক্ষ):

যদি যোগাযোগের উদ্দেশ্য হয় সম্পূর্ণ দ্বীনি শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যবসায়িক প্রয়োজন এবং সেখানে কোনো ধরণের ফেতনার আশঙ্কা না থাকে, তবে তা অনুমোদিত হতে পারে।

দলিল (কুরআন): মহান আল্লাহ তাআলা সূরা তাওবার ৭১ নম্বর আয়াতে বলেন:

“আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে…”

প্রয়োগ: এই আয়াতের আলোকে দ্বীনি বা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম, শিক্ষাবিদ বা প্রতিষ্ঠানের আইডি/পেজ ফলো করা যাবে, তা তিনি পুরুষ হোন বা নারী। তবে সেখানেও পর্দার বিধান ও শালীনতা বজায় রাখা আবশ্যক।

২. কখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও গুনাহের কারণ:

নিছক সামাজিক সম্পর্ক তৈরি, চ্যাটিং বা “ফ্রেন্ডশিপ” করার জন্য ছেলে-মেয়ে একে অপরকে ফ্রেন্ড বানানো বা ফলো করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম বা গুনাহের কাজ। এর কারণ ও দলিলগুলো নিচে দেওয়া হলো:

দৃষ্টির হেফাজতের লঙ্ঘন: ফেসবুকে ফ্রেন্ডলিস্টে থাকার কারণে একে অপরের ব্যক্তিগত ছবি, রিলস বা স্টোরি সামনে চলে আসে। ইসলামে বেগানা (পর) নারী বা পুরুষের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকানো নিষিদ্ধ।

দলিল (কুরআন): আল্লাহ তাআলা বলেন, “মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে…” (সূরা আন-নূর: ৩০)। একই নির্দেশ নারীদের জন্যও দেওয়া হয়েছে পরবর্তী আয়াতে।

অপ্রয়োজনীয় ও কোমল আলাপ (ইনবক্সিং): ফ্রেন্ডলিস্টে থাকার ফলে হুটহাট কমেন্ট বা ইনবক্সে মেসেজ আদান-প্রদান শুরু হয়। পরনারীর সাথে অহেতুক বা আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলা ফেতনার পথ তৈরি করে।

দলিল (কুরআন): “…অতএব তোমরা (পরপুরুষের সাথে) কথা বলার সময় আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলো।” (সূরা আল-আহযাব: ৩২)।

নির্জনতা বা একাকীত্বের সৃষ্টি (Virtual Khalwah): ইনবক্সে যখন একজন ছেলে ও মেয়ে একান্তে কথা বলে, তখন সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে শয়তান উপস্থিত হয় এবং তাদের গুনাহের দিকে ধাবিত করে।

দলিল (হাদিস): রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে মিলিত না হয়, কেননা তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।” (জামে তিরমিযী)। বর্তমান যুগের ডিজিটাল ইনবক্স বা চ্যাটিংও এই একাকীত্ব বা ‘খলওয়াহ’-এর অন্তর্ভুক্ত।

হানাফী ফিকহের আলোকে সারকথা:

হানাফী ফিকহ ও ফাতাওয়ার মূলনীতি হলো—”ফেতনার আশঙ্কা যেখানে থাকে, সেটি পরিহার করা ওয়াজিব।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্রেন্ড বা ফলো করার কারণে যদি একে অপরের ছবি দেখা, অপ্রয়োজনীয় লাইক-কমেন্ট করা বা ইনবক্সে কথা বলার পথ তৈরি হয়—তবে তা ফেতনার স্পষ্ট মাধ্যম। আর যা গুনাহের দিকে নিয়ে যায়, ইসলামে তা-ই নিষিদ্ধ।

তাই তাকওয়া ও মনের পবিত্রতা বজায় রাখতে দ্বীনি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপরীত লিঙ্গের কাউকে ফ্রেন্ডলিস্টে না রাখা এবং ফলো না করাই মুমিনের জন্য নিরাপদ ও ইসলামের বিধান।

…….فقط. والله اعلم بالصواب …….

🖍️উত্তর লিখনে-

মুফতী রিয়াজুল ইসলাম হানাফী

মাদারীপুরী

👉🏿শরয়ী মাসয়ালার সামাধান জানতে যোগাযোগ করুন –

📱+8801339868000 (Whatsapp)

 

 

📧 contact.hanafifatawa@gmail.com

WhatsApp