❓প্রশ্ন: যয়ীফ হাদীস কি আমলের ক্ষেত্রে গ্রহনযোগ্য?
✍️উত্তর:… بسم الله الرحمن الرحيم ….
যয়ীফ হাদীসকে প্রায় সকল মুহাদ্দিসই শর্ত সাপেক্ষে ফযিলতের ক্ষেত্রে, ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে ও রিকাক বা চিত্তবিগলনের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেছেন।
আর আহকাম বা বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ যয়ীফকে দুভাগে ভাগ করেছেন। যথা-
এক. এমন যয়ীফ হাদীস, যার সমর্থনে কোন শরয়ী দলিল নেই, বরং এর বক্তব্য শরীয়তের দৃষ্টিতে আপত্তিজনক। এ ধরণের যয়ীফ হাদীস আমলযোগ্য নয়।
দুই. সনদের বিবেচনায় হাদীসটি যয়ীফ বটে, তবে এর সমর্থনে শরয়ী দলীল প্রমাণ
আছে, সাহাবী ও তাবেয়ীগণের যুগ থেকে এ হাদীস অনুসারে আমল চলে আসছে। এমন যয়ীফ হাদীস শুধু আমলযোগ্যই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা মুতাওয়াতির বা অসংখ্য সূত্রে বর্ণিত হাদীসের সমমানের বা তার চেয়েও শক্তিশালী বলে গন্য করা হয়৷ এ ধরনের দুর্বল হাদীসকে ইলমে হাদীসের পরিভাষায় الضعييف المتلقى بالقبول
“দুর্বল হওয়া সত্বেও গৃহিত” বলা হয়।
‘আল আজবিবাতুল ফাযিলা’ গ্রন্থের পরিশিষ্টে শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবূ গুদ্দাহ (র.) এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
এ সম্পর্কে কয়েকজন বিশিষ্ট মহিয়সীদের উক্তি তুলে ধরা হলো-
১. হাফেজ ইবনে হাজার আসক্বলানী (রহ) লিখেন,
اذا تلقته الامة بالقبول . ولا شك أن إجماع الأمة على القول بصحة الخبر أقوى من إفادة العلم من القرائن المحتفة ومن مجرد كثر الطرق. فانه حتى يجب العمل به
অর্থ, যে হাদীস অনুযায়ী আমল করা উম্মতের নিকট গৃহীত হয়েছে এবং যে
বিষয় অনুযায়ী আমল করার প্রতি উম্মতের ঐক্য (ইজমা) চলে আসছে,
নি:সন্দেহে তা গ্রহণ করার মতো অনেক কারণ ও বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হাদীস
অপেক্ষাও শক্তিশালী। এমনকি এর উপর আমল করা ওয়াজীব হবে।
-(আন নুকাতে আলা কিতাবে ইবনে ছালাহ/আসক্বলানী: ১/৪৯৪)
২. হাফেজ ইবনুল কায়্যিম (র.) তার ‘কিতাবুর রূহ’ গ্রন্থে একটি যয়ীফ হাদীস সম্পর্কে বলেছেন,
فهذا الحديث وإن لم يثبت فاتصال العمل به في سائر الأمصارو الأعصار من غير إنكار كاف في العمل به
অর্থ, “এ হাদীসটি প্রমাণিত না হলেও বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন শহরে কোন
রূপ আপত্তি ছাড়া এ অনুযায়ী আমল চালু থাকাই হাদীসটি আমলযোগ্য
হওয়ার জন্য যথেষ্ট।” (কিতাবুর রূহ: ১৬)
৩. ইমাম যারকাশী (র.) তাঁর হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থ ‘আন-নুকাত’ এ বলেছেন,
إن الحديث الضعيف إذا تلقته الأمة بالقبول عمل به على الصحيح حتى ينزل منزلة المتواتر
অর্থ, যয়ীফ হাদীসকে যখন উম্মাহ ব্যাপকভাবে গ্রহন করে নেয়, তখন সঠিক মতানুসারে সেই হাদীসটি আমলযোগ্য হয়, এমনকি তা মুতাওয়াতির হাদীসের মানে পৌঁছে যায়। -(আন-নুকাত: ১/৩৯০)
৪. হাফেজ শামসুদ্দীন সাখাবী৫ তাঁর ‘ফাতহুল মুগীছ’ গ্রন্থে লিখেছেন,
وكذا إذا تلقت الأمة الضعيف بالقبول يعمل به على الصحيح حتى انه ينزل المتواتر في أنه ينسخ المقطوع به ولهذا قال الشافعي رحمه الله في حديث لا وصية لوارث إنه لا يثبته أهل الحديث ولكن العامة تلقته بالقبول
وعملوا به حتى جعلوه ناسخا لآية الوصية.
অর্থ, উম্মাহ যখন যয়ীফ হাদীসকে ব্যাপক হারে গ্রহণ করে নেয়, তখন সহীহ মত অনুসারে সেটি আমলযোগ্য হয়। এমনকি তার দ্বারা অকাট্য বিধান রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে সেটি মুতাওয়াতির দলিলের মানোত্তীর্ণ হয়। এ কারণেই ইমাম শাফেয়ী (র.) ‘উত্তরাধিকারীর জন্য কোন ওসিয়ত
নেই’ হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেন, হাদীস বিশারদগণ এটিকে সুপ্রমাণিত মনে না করলেও ব্যাপকহারে আলেমগণ এটি গ্রহণ করে নিয়েছেন, এ অনুযায়ী আমল করেছেন, এমনকি তারা এটিকে ওসিয়ত সম্পর্কিত আয়াতটির বিধান রহিতকারী আখ্যা দিয়েছেন।
-(ফাতহুল মুগীস: ১/৩৩৩)
৫. ওলামায়ে দেওনান্দের গর্ব “ইমামুল আ‘ছর” আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ:) এ প্রকারের যয়ীফ হাদীসের গ্রহনযোগ্যতার ব্যাপারে সুন্দর একটি মূলনীতি পেশ করেছেন।
তিনি বলেন,
كان الإسناد لئلا يدخل فى الدين ما ليس منه لا يخرج ما ثبت منه من عمل أهل الإسناد
অর্থ, সনদের প্রয়োজন হয়েছে যাতে করে শরীয়তে নেই এমন কিছু শরীয়তে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। যাদের উপর সনদ নির্ভর করে তাঁদের অনুসৃত আমলের দ্বারা যদি বিষয় বস্তু প্রমাণ হয়ে যায় তাহলে সনদের অজুহাতে ঐ বিষয়কে বাহির করার জন্য সনদের ধারা চালু হয়নি। -(আল আজবিবাতুল ফাজেলা: ২৩৮)
……فقط. والله اعلم بالصواب ……..
🖍️উত্তর লিখনে-
মুফতী রিয়াজুল ইসলাম হানাফী
মাদারীপুরী
👉🏿শরয়ী মাসয়ালার সামাধান জানতে যোগাযোগ করুন –
📱+8801990270150 (Whatsapp)
📧contact.hanafifatawa@gmail.com


